দেশে গত বছর রেকর্ড চা উৎপাদন হয়েছিল। তবে চলতি বছর উৎপাদন খরায় ভুগছে এ খাত। জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে চা উৎপাদন কমেছে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৭২ লাখ ৪০ হাজার কেজি। চলতি মৌসুমে অপরিমিত বৃষ্টিপাত চা উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে বলে জানিয়েছেন উৎপাদন সংশ্লিষ্টরা।
বাংলাদেশ চা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, দেশে চলতি বছর চা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১০ কোটি ৮০ লাখ কেজি। বছরের শুরু থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পণ্যটি উৎপাদনের পরিমাণ দাঁড়ায় ৬ কোটি ১৭ লাখ ৫০ হাজার কেজিতে, গত বছরের একই সময় যা ছিল ৬ কোটি ৮৯ লাখ ৯০ হাজার কেজি।
খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভালো ও স্বাভাবিক চা উৎপাদনের জন্য ভারি বৃষ্টিপাতের পরিবর্তে পরিমিত ও নিয়মিত বৃষ্টিপাত প্রয়োজন। বৃষ্টিপাতের পাশাপাশি রৌদ্রোজ্জ্বল আবহাওয়াও গুরুত্বপূর্ণ। দেশে এ বছর চা চাষের উপযোগী বৃষ্টিপাত হয়নি। চলতি বছর মৌসুমের শেষার্ধে ভারি বৃষ্টিপাত হলেও তা চা চাষের জন্য উপযোগী ছিল না, যা উৎপাদনে প্রভাব ফেলেছে। এতে চলতি বছর চা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।
জানতে চাইলে উদালিয়া চা বাগানের কোঅর্ডিনেটর মো. জাহাঙ্গীর আলম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘বাংলাদেশে চা উৎপাদন কয়েক বছর ধরে ঊর্ধ্বমুখী ধারায় রয়েছে। তবে এ বছর আবহাওয়ার বিরূপ প্রভাবে উৎপাদন কিছুটা কম হয়েছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘দেশে সাধারণত জুন-অক্টোবর পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি চা উৎপাদনের সুযোগ থাকে। সর্বশেষ বর্ষায় উৎপাদন কমেছে। ফলে বছরের শেষ দিকেও নিলামে চায়ের চাহিদা ও দাম দুটোই তুলনামূলক বেশি। দুই মাসে বাড়তি চা উৎপাদন না হলে লক্ষ্যমাত্রা থেকে পিছিয়ে পড়বে বাংলাদেশ।
চা বোর্ড আরো জানায়, জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নয় মাসের মধ্যে শুধু জুনে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় বাড়তি চা উৎপাদন হয়েছিল। এ সময় উৎপাদনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছিল ১ কোটি ২৮ লাখ ২৪ হাজার কেজিতে, গত বছরের একই সময়ে যা ছিল ১ কোটি ৭ লাখ ১৬ হাজার কেজি।
বাংলাদেশ চা বোর্ডের দেয়া তথ্যানুযায়ী, ১৬৮টি চা বাগান ও ক্ষুদ্রায়তন চা চাষীদের মাধ্যমে চলতি বছরের জানুয়ারিতে ১ লাখ ৭৫ হাজার কেজি চা উৎপাদন হয়েছে। ফেব্রুয়ারিতে এর পরিমাণ ছিল ৪২ হাজার কেজি। মার্চে আবার তা বেড়ে ১৫ লাখ ৯৩ হাজার কেজিতে পৌঁছায়।
দেশে এপ্রিলে ৪৮ লাখ ৮২ হাজার ও মে মাসে ৪৭ লাখ ৭৫ হাজার কেজি চা উৎপাদন হয়। জুন ও জুলাইয়ে যথাক্রমে এর পরিমাণ ছিল ১ কোটি ২৮ লাখ ২৪ হাজার ও ১ কোটি ১৪ লাখ ৩৫ হাজার কেজি। আগস্টে উৎপাদন ১ কোটি ৩৮ লাখ ৬ হাজার কেজিতে পৌঁছায়। সেপ্টেম্বরে তা আবার ১ কোটি ২২ লাখ ১৭ হাজার কেজিতে নেমে আসে।
বছরের প্রথমদিকে সাধারণত কম চা উৎপাদন হয়। গত বছরের জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি ও মার্চে দেশে যথাক্রমে ৩ লাখ ৬৪ হাজার, ৪৬ হাজার ও ২০ লাখ ৪৬ হাজার কেজি চা উৎপাদন হয়েছিল। চা বোর্ড জানায়, গত বছরের এপ্রিল, মে ও জুনে এর পরিমাণ ছিল যথাক্রমে ৫১ লাখ ৭ হাজার, ৮২ লাখ ৭২ হাজার ও ১ কোটি ৭ লাখ ১৬ হাজার কেজি।